আজকের আমার স্বদেশ ডেস্ক
প্রকাশ ১৪ মাঘ, ১৪৩২
অনলাইন সংস্করণ

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক মা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন


বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমান গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৭ আসনের ভাষানটেকে প্রচারণা জনসভা করেছেন। তিনি ভ্যানচালক, গৃহিণী, বস্তিবাসী ও ছাত্রদের মঞ্চে ডেকে ডেকে সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং নির্বাচিত হলে তা সমাধানের আশ্বাস দেন। ভাষানটেক বিআরপি মাঠে ব্যতিক্রমধর্মী এই বিশাল জনসভায় ছিল উপচে পড়া মানুষের উপস্থিতি। 

ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়ে তারেক রহমান বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান। এই এলাকায় বড় হয়েছি। তাই এই এলাকার মানুষের দুঃখ-কষ্ট, প্রত্যাশা ও সমস্যার দায় আমি নিতেই চাই। সুযোগ পেলে ইনশাল্লাহ এসব সমস্যার সমাধান করব। তারেক রহমান বলেন, আপনারা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন পুনর্বাসন, ফ্যামিলি কার্ড, কর্মসংস্থান-ইনশাল্লাহ, বিএনপি সরকার গঠন করলে এগুলো আমরা অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধান করব।

বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি কাজ করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান। করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ এই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধানের শীষকে যতবার জনগণ নির্বাচিত করেছে, ততবার উন্নতি হয়েছে মানুষের।

পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সারা দেশে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে। সবার   
আত্মীয়স্বজনকেও অনুরোধ করব, ধানের শীষে ভোট দিতে। তারেক রহমান বলেন, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিত্সাসহ মূল সমস্যাকে সমাধান করতে হলে অবশ্যই নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। মানুষের নির্বাচিত সরকারই মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারবে। তারেক রহমান বলেন, সারা দেশের মানুষ একটি ভালো পরিবর্তন চায়। 

তারা চায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা হোক, নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক এবং শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষার সুযোগ পাক। দেশের বহু মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে বিদেশে গেলেও দক্ষতার অভাবে তারা কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পায় না। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগণকে দক্ষ করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আমরা তাদের ট্রেইনিং দিয়ে দক্ষ করে তুলব যেন তারা এদেশেই কর্মসংস্থান পায়। এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যেক মা ইনশাল্লাহ ফ্যামিলি কার্ড পাবে। যুব সমাজের চাকরি সমস্যা সারা বাংলাদেশের। বিএনপি সরকার গঠন করলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এক জন নারীকে মাসে ২০০০-২৫০০ টাকা দেব। 

তাই ফ্যামলি কার্ড পেতে হলে সারা বাংলদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। এই এলাকায় আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি। আমরা সরকার গঠন সক্ষম হলে বস্তিবাসীকে পুনর্বাসনসহ সব সমস্যা সমাধান করব।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আন্দোলন ও সংগ্রাম হয়েছে। স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এখন দেশ গঠন করতে হবে। স্বৈরাচারের কারণে আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়েছিল। এখন দেশ পুনর্গঠনে নিজেদের প্রতিনিধি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে হবে। আমি, তুমি ও ডামির নির্বাচন যখন হয়েছে, তখন সমস্যা নিয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে যাওয়া যায়নি। গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে হবে। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

ক্রীড়া ক্ষেত্রকে উন্নয়ন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রীড়া ব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই, যেন তারা প্রফেশনাল খেলোয়াড় হতে পারে। খেলা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। 

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসী তাদের সমস্যা তুলে ধরতে পারে। শুধু সংসদে নয়, একই সঙ্গে পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ সব জায়গায় জনপ্রতিনিধি থাকতে হবে। সব জায়গায় জবাবদিহিতা থাকতে হবে। জানতে হবে জনগণের সমস্যা কী। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিন। 

এ সময় তিনি খুঁজে নিরপেক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক, ছাত্র, স্টেজে আনেন। দলের অনেকে আসতে চাইলেও তিনি বলেন দলের কেউ আসতে পারবেন না। তিনি তাদের কাছে জানতে চান এই এলাকার কী কী উন্নয়ন করতে হবে।

গতকাল বিকাল থেকেই ভাসানটেক বিআরপি মাঠ ও আশপাশের সড়কে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্রোতের মতো আসেন সমাবেশে। জনসভায় অংশগ্রহণকারী নারী নেতাকর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থাও করা হয়। 

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। জনসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্সবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এবার আল্লাহ তাকে এমন একটি সুযোগ দিয়েছেন, যেখানে তিনি এমন একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন, যিনি নির্বাচিত হলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে অব্যাহতভাবে কথা বলে গিয়েছেন। ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি দেশবাসীকে একটি সঠিক পথ দেখাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘একজন প্রার্থী বলেছেন সব ব্যবস্থা হয়েছে ঢাকার একটি আসনও দেওয়া হবে না। কে নির্বাচিত হবেন সেটার ফয়সালা ভোটাররা করবেন। বিএনপি ১৯৯১ সালে ঢাকা মহানগরের সব আসনে বিজয় হয়েছিল। এ রকম রেকর্ড কারো নেই। 

অথচ আমরা এমন কথা বলি না। যারা এ কথা বলেছেন তিনি অহংকার প্রকাশ করেছেন।’ ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার আগে একটি কথা খেয়াল রাখবেন, একটা রাষ্ট্র পরিচালনা অনেক বড় কাজ। যার এই কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, তাকে কি এই দায়িত্ব দেওয়া যায়?  বিএনপি ছাড়া আর কারো রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদসহ প্রমুখ।

সরাসরি ভোটারদের সঙ্গে আলাপ

মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করার আগে দর্শক সারিতে থাকা কয়েক জনকে কাছে ডাকেন তারেক রহমান। তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা শোনার মধ্য দিয়ে তিনি এলাকার সমস্যা সম্পর্কে ভোটারদের কাছ থেকেই জানতে চান। ভাষানটেকের ভ্যানচালক মো. জুয়েলকে সামনে এনে তারেক রহমান জানতে চান, এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা কী? জুয়েল বলেন, ‘আমাদের থাকার জায়গা নাই।

 পুনর্বাসনের ব্যবস্থা চাই।’ এরপর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের পাশেই ক্যান্টনমেন্ট এলাকা, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর। কিন্তু ভাষানটেক খুব অনুন্নত। আমরা চাই, এই এলাকার উন্নয়ন হোক।’ লিলি নামের এক বস্তিবাসী নারী বলেন, ‘আমাদের কিছুই নাই। পুনর্বাসন চাই, ফ্যামিলি কার্ড চাই।’ শান্তা নামের আরেক জন বলেন, নারীদের কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ নেই।

 
    

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দুবাইয়ে জয় শাহ, বাংলাদেশের বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত জানাতে পারে আই

1

বরিশালে এক নবজাতককে ৩ দিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না, মায়ের বিরুদ্ধ

2

ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন এক কথায় অবাস্তব এবং অসম্ভব: সারজিস আ

3

প্রথমবার একসঙ্গে প্রীতম মেহজাবীন

4

বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ল ‘অনড়’ বাংলাদেশ ঢুকল স্কটল্যান্ড

5

দেড় থেকে দুই কোটি মানুষকে টিসিবির পণ্য দেওয়া সম্ভব: বাণিজ্য

6

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তে আবার উত্তেজনা, হামলায় ৩ বাংলাদেশি

7

বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার

8

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি জানাল ছাত্রদ

9

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

10

ভোটের ফল নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের জনগণ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

11

গরিবের আবাসনের নামে ধনীদের ফ্ল্যাট

12

অবিবেচনাপ্রসূতভাবে ভ্যাটের হার বাড়ানো হয়েছে: দেবপ্রিয়

13

প্রাইজমানি অনিশ্চিত ভবিষ্যতে চিন্তিত ক্রিকেটাররা

14

ইতালির ইমিগ্রেশন ও নাগরিকত্ব ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন

15

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রত্যেক মা ফ্যামিলি কার্ড পাবেন

16

এবার আরও একটি চমক দেখাল ওপেনএআই

17

সাকিবকে দলে ফেরানোর উদ্যোগ বিসিবির

18